Breaking News

বিশ্বকাপ ফুটবলঃ তারকা পরিচয় - পুসকাস | দীপ্তাশিস দাসগুপ্ত



বিশ্ব কাপ ফুটবল শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। ফুটবল দুনিয়া আবার মেতে উঠবে দেশ বনাম দেশের মধ্যে লড়াইকে ঘিরে। প্রতি বিশ্ব কাপ জন্ম দেয় নতুন নতুন তারকার। যারা আজ কুঁড়ি, তারাই পরবর্তী কালে বিশ্ব কাপ এর মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা মেলে ধরে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে তারকা হিসেবে পরিচিত হন বা হবেন অদুর ভবিষ্যতে। আজ এরকম ই একজন অসাধারণ ফুটবলারের কথা আলোচনা করবো সবার সাথে। নাম টা বললে সবাই চিনবেন তাঁকে। তিনি হাঙ্গেরির ফেরেঙ্ক পুসকাস, "দ্যা গ্যালোপিং মেজর"। 



জন্ম ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দের ২ রা এপ্রিল বুদাপেস্টের এক জার্মান পরিবারে। তাঁর বাবা ছিলেন একজন ফুটবলার (পরে কোচ) এবং মা ছিলেন একজন সীবনকারিনী। ফুটবলের প্রতি ঝোঁক ছিল ছোট থেকেই। বাঁ পা কথা বলত তাঁর। যদিও দুপায়েই সমান ভাল খেলতে পারতেন। খুব অল্প বয়েসে কিস্পেস্ত এ সি তে যুব দলে যোগদান করেন, যেখানে তাঁর বাবা ছিলেন কোচ। ক্রমশ তাঁর ফুটবল প্রতিভা সকলের নজর আকৃষ্ট করে এবং অচিরে তিনি সিনিয়র দলে মনোনীত হন মাত্র ষোল বছর বয়েসে। হাঙ্গেরির জাতীয় দলে সুযোগ পান মাত্র ১৮ বছর বয়েসে এবং অভিষেকেই নজর কেড়ে নেন সকলের অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে গোল করে, যে খেলা তে তাঁর দেশ হাঙ্গেরি ৫-২ গোলে জয়্লাভ করে। 



এরপর একসময় পুসকাস কে হাঙ্গেরির জাতীয় দলের অধিনায়ক নির্বাচিত করা হয়। ধীরে ধীরে হাঙ্গেরির জাতীয় দল কে তিনি অপ্রতিরোধ্য করে তোলেন সমস্ত দেশের বিরুদ্ধে। সেই সময় জয় কথাটি হাঙ্গেরির জাতীয় দলের সমার্থক হয়ে ওঠে। জোলটান জিবর, শান্দর কচসিস, জযসেফ বসযিক, নান্দর হিদেগকুতি এবং সর্বোপরি পুসকাস নিজে হাঙ্গেরি ফুটবলের স্বর্ণযুগের সূচনা করেন। হাঙ্গেরির জাতীয় দলের ডাকনাম তখন "দ্যা মাইটি মায়গারস", অর্থাৎ স্বর্ণ যুগের দল। সেইসময় হাঙ্গেরি টানা ৩২ টা খেলাতে অপরাজিত ছিল একবার। তিনি হাঙ্গেরির জাতীয় দলের হয়ে মোট ৮৫ টি ম্যাচ খেলেন এবং ৮৪ টি গোল করেন। যার মধ্যে রয়েছে অস্ট্রিয়ার সাথে দুটি হ্যাট্রিক, লুক্সেম্বরগ এর সাথে একটি হ্যাট্রিক ও আলবানিয়ার সাথে চার গোল। এছাড়া বুদাপেস্ট হনভেদের (কিস্পেস্ত এ সি যা পরবর্তী সময়ে নাম পরিবর্তন করে) হয়ে ৩৪১ টি খেলাতে ৩৫২ টি গোল ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি ১৮০ টি খেলা তে ১৫৬ টি গোল করেন। 



১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি স্পেন এর নাগরিকত্ব নেন এবং স্পেন এর জাতীয় দলের হয়ে ৪ টি ম্যাচ খেলেন। কিন্তু শুধুমাত্র পরিসংখ্যান দিয়ে এই বিশাল মাপের খেলোয়াড় টিকে বিচার করলে তাঁকে অসম্মান ই করা হবে। মূলত তাঁর অসামান্য দক্ষতার জোরেই হাঙ্গেরি ১৯৪৭ এ বাল্কান কাপ জেতে ও ১৯৫২ হেলসিঙ্কি অলিম্পিকে ফুটবলে সোনা পায়। তারপর ১৯৫৩ এ সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান কাপেও হাঙ্গেরি কে চ্যাম্পিয়ন করান তিনি। এরপর ১৯৫৪ তে জুলে রিমে বিশ্ব কাপ। অসাধারণ ফুটবলের প্রদর্শন ঘটান তিনি। একের পর এক বিশ্বমানের গোলে সবাইকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দেন তিনি। মূলত তাঁর কাঁধে ভর করেই হাঙ্গেরি ফাইনালে ওঠে এবং ফাইনালে প্রবল শক্তিধর পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে এক সময় ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ২-৩ গোল এ পরাজিত হয়। 



দেশকে বিশ্ব কাপ জেতাতে না পারলেও তিনি সেই বিশ্ব কাপের সেরা খেলোয়াড় মনোনীত হন ও তাঁর অনবদ্য ফুটবল শৈলী সারা পৃথিবীর মানুষের মন জয় করে নেয়। একটি দেশের ফুটবল কে একার হাতে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় করে তোলেন। হাঙ্গেরির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয় তাঁকে। তাঁর মত একজন অসামান্য ফুটবলার কে সম্মান দিতে তাই ফিফা পরবর্তী কালে শ্রেষ্ঠ গোল দাতার পুরষ্কারটি তাঁর নামে নামকরণ করে। ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই নভেম্বর তিনি পরলোকগমন করেন।

ফেসবুক ক্রমাগত আমাদের গ্রুপ শেয়ারিং ব্লক করে চলেছে, সুতরাং, খেলাধুলা সম্পর্কিত সমস্ত খবর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইকের মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন, পোস্টটি পছন্দ হলে শেয়ার করতে অবশ্যই ভুলবেন না কিন্তু, লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজে
[pullquote align="normal"]
loading...
loading...
[/pullquote]

No comments