Breaking News

দর্শকদের কাছে আইপিএল বিনোদন, বিরাটের কাছেও | রাজু মুখার্জি


বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের নাম যে বিরাট কোহলি, সেটা নিয়ে নিশ্চয়ই কারও কোনও সন্দেহ নেই। অন্যতম শ্রেষ্ঠ বলার একটাই কারণ, কোনও একজনকে বিশ্বশ্রেষ্ঠ বলাটা আমার ধাঁচে নেই। অবশ্যই ডন ব্র্যাডম্যান এবং গ্যারি সোবার্স এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।



আইপিএলের পারফরমেন্সের নিরিখে অনেক পাঠকই ভাবতে পারেন, কোহলি কেন রান পাচ্ছে না। খুবই স্বাভাবিক প্রশ্ন। ঘটনা হল, যত বড় খেলোয়াড়ই হোক না কেন, তার পারফরমেন্সের চড়াই–উতরাই থাকবেই। একজন ক্রিকেটারের পক্ষে সারা বছর ঘুরে সব ধরনের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সত্যিই কঠিন। বিশেষ করে এই আধুনিক ক্রিকেটে যখন তিন ফরম্যাটে খেলা চলছে, তখন ওরকম ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কিন্তু প্রায় অসম্ভব। এখনও পর্যন্ত কেউই করে দেখাতে পারেনি। এমনকী পৃথিবীর অন্য শ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যানরা যেমন কেন উইলিয়ামসন, জো রুট, ডি’‌ভিলিয়ার্সরাও সারা বছর সর্বক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারে না। একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত, কোহলি যখন দেশের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি বা স্পনসরদের হয়ে টি–২০ খেলে, তখন কিন্তু ওর মানসিকতার মধ্যে আকাশ–পাতাল পার্থক্য থাকে। যে কোনও সেরা খেলোয়াড়ের পক্ষে এই মানসিকতাটাই আমরা চাই।



অনেক নামকরা খেলোয়াড়ই নিজের দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলে প্রাইভেট স্পনসরদের হয়ে টি–২০ ক্রিকেট খেলতে সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়ায়। এক একদিন এক এক দলের হয়ে মাঠে নামে। প্রতি মাসেই দল বদলে যায়। সেই অর্থে নির্দিষ্ট দলের প্রতি তাদের দায়দায়িত্ব যতক্ষণ খেলছে ঠিক ততক্ষণ। তার আগে বা পরে কিন্তু তাদের সেরকম কোনও দায়িত্বই থাকে না। কিন্তু ভারত অধিনায়কের মানসিকতা একেবারেই অন্যরকম। বিরাট ভারতের সফল অধিনায়কদের একজন। এবং এই মুহূর্তে ভারতীয় দল বিশ্বের সেরাদের একটা। অর্থাৎ বিরাটের দায়দায়িত্ব অন্য পর্যায়ের। অনেক উঁচুতে। ভারতীয় ক্রিকেটের কোটি কোটি অনুগামীর কথা তাকে মাথায় রাখতে হয়। সেইজন্য বিরাট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে মানসিকতা নিয়ে দেশের হয় মাঠে নামে, সেই একাগ্রতা নিয়ে কখনওই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে দেখা যায় না। এটা সম্ভব নয়। উচিতও নয়।



আইপিএল নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় বিরাট কোহলির নেই। থাকার কথাও নয়। গত দশ বছর ধরে বাঙ্গালোর আইপিএল খেলছে। এবার একাদশ বছর। কোনও বারই কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হয়নি। অথচ বিশ্বের সেরা সেরা খেলোয়াড়কে নিয়ে বিজয় মালিয়া কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে দল তৈরি করত। আসলে কখনই এটা প্রকৃত অর্থে দল হত না। তৈরি হত একটা একাদশ। সেই কারণেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স কখনই আইপিএল জেতেনি। চিরকালই আইপিএল থেকে গেছে দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার জন্য। ক্রিকেট দুনিয়ায় আজ বিরাট কোহলি যে জায়গায় রয়েছে, তাতে এই আইপিএল তার কাছে স্রেফ দু’মাস সময় কাটানোর জায়গা। একটু ক্রিকেটও হল, গা–ঘামানোও হল। আবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পয়সাও এল। দায়দায়িত্ব ছাড়া যদি এরকম ক্রিকেটীয় ছুটি কাটানো যায়, তাহলে মন্দ কী? আইপিএলের গড় নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই ওর। বিরাট খুব ভালভাবেই জানে, আগামী মাস থেকে শুরু তার অগ্নিপরীক্ষা। ইংল্যান্ডের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ। সেই কারণেই ওখানকার আবহাওয়া, পরিবেশ–পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য খুব বুদ্ধি করে সারে কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের আবেদন ফিরিয়ে দেয়নি। এমনকী এতটাই সিরিয়াস যে দেশে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচ থেকেও নিজেকে সরিয়ে রেখেছে।

অতীতে আমরা অনেক অধিনায়ক বা নামকরা খেলোয়াড়কে দেখেছি, দুর্বল প্রতিপক্ষ দেখলে ঝাঁপিয়ে পড়তে। নিজেদের পারফরমেন্স এবং রেকর্ড উন্নতি করার জন্য। তরুণদের জায়গা ছেড়ে দিত না। ঠিক এখানেই বিরাট কোহলি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। জিম্বাবোয়ে, বাংলাদেশের েথকেও দুর্বল প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। তাদের বিরুদ্ধে খেললে বিরাটের একটা বিশ্বরেকর্ড করার সহজ উপায় ছিল। কিন্তু বিরাট সেদিকে গেল না। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রস্তুতিই তার কাছে মূল উদ্দেশ্য হয়ে উঠল। এই মানসিকতাতেই কোহলি বিরাট অনন্য। ফলে আমার মতে, দর্শকদের কাছে আইপিএল যেমন বিনোদন, বিরাটের কাছেও তাই।‌‌‌‌‌

সৌজন্যে - আজকাল
ফেসবুক ক্রমাগত আমাদের গ্রুপ শেয়ারিং ব্লক করে চলেছে, সুতরাং, খেলাধুলা সম্পর্কিত সমস্ত খবর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইকের মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন, পোস্টটি পছন্দ হলে শেয়ার করতে অবশ্যই ভুলবেন না কিন্তু, লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজে
[pullquote align="normal"]
loading...
loading...
[/pullquote]

No comments