Breaking News

বিশ্বকাপ ফুটবল : তারকা পরিচয় - লেভ ইয়াসিন । দীপ্তাশিস দাসগুপ্ত


বিশ্বকাপ শুরু হতে কয়েকদিন মাত্র বাকি। সব দল ই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি আরম্ভ করে দিয়েছে। চলছে অস্ত্রে শান দেওয়া। আর একথা কে না জানে যে একজন ভাল গোলরক্ষক যে কোনও দলের অন্যতম সম্পদ। এমন ই একজন গোলরক্ষকের কথা বলব আজকে। তাঁর নাম Lev Ivanovich Yashin অথবা লেভ ইয়াসিন। যাকে 'ব্ল্যাক স্পাইডার', 'ব্ল্যাক প্যান্থার' ইত্যাদি বহু নামে ডাকা হয়। সারাজীবনে ১৫০ টির বেশী পেনাল্টি কিক বাঁচানো ও ২৭০ এরও বেশী ম্যাচে গোল না খাওয়া এই রুশ গোলরক্ষককে পৃথিবীর সর্বকালের সেরা গোলরক্ষক হিসেবে ধরা হয়। ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি Ballon D'Or পান, বিশ্বের একমাত্র গোলরক্ষক হিসেবে। এছাড়াও European Goalkeeper of the Year র সম্মান পান ৭ বার। সাথে ২ বার বিবেচিত হন দেশের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে। 



বলাই বাহুল্য, এইসমস্ত তথ্য জানার পর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আর কোনও সংশয় থাকে না। তাঁর জন্ম ১৯২৯ সালের ২২ শে অক্টোবর মস্কোর এক শ্রমিক পরিবারে। মাত্র ১২ বছর বয়েসে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের কারণে তাঁকে কারখানাতে কাজ করতে হয় যুদ্ধকালীন সহায়তার কারণে। কিন্তু ১৮ বছর বয়েসে কাজ করতে শারীরিক ভাবে অক্ষম হয়ে যাওয়াতে তাঁকে ওখান থেকে মস্কোরই একটি মিলিটারি কারখানাতে পাঠানো হয়। সেই কারখানারই ফুটবল দলের হয়ে খেলার সময় একদিন তিনি নজরে পরে যান Dynamo Moscow দলের স্পটারদের যে ক্লাবের হয়ে তিনি সারাজীবন খেলেছেন এবং সবসুদ্ধু ৩২৬ টি খেলাতে অংশগ্রহণ করেন। সেই তাঁর ফুটবল জীবনের উত্থানের শুরু। ১৯৫০ এ Dynamo Moscow র হয়ে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ খেলাতে তাঁর অভিষেক হয়। বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকের শুরু টা অবশ্য ভাল হয়নি। বিপক্ষ গোলরক্ষকের একটি ক্লিয়ার‍্যান্স ধরতে না পেরে একটি অত্যন্ত বাজে গোল খান। এর দরুন ১৯৫৩ পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষা করতে হয় Dynamo Moscow র সিনিয়র দলে সুযোগ পাবার জন্যে। 



সেইসময় তিনি Dynamo Moscow র ice hockey দলে নিয়মিত গোলরক্ষকের ভুমিকা পালন করতেন । ১৯৫৩ তে তিনি USSR কে একটি ice hockey cup এ চ্যাম্পিয়ন করান ও একি সাথে সেই বছরেই Ice Hockey Championship এ গোলরক্ষক হিসেবে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। এরপর অবশ্য ফুটবলেই মনোনিবেশ করেন এবং Dynamo Moscow কে ৫ বার USSR Football Championship এ চ্যাম্পিয়ন করান ও সেই সঙ্গে ৩ বার USSR Cup জিততে সাহায্য করেন তাঁর অসাধারণ গোল কিপিং দক্ষতার দ্বারা। এরই মাঝে ১৯৫৪ সালে তিনি USSR জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য ডাক পান। ১৯৫৮ থেকে ১৯৭০, এই চারটি বিশ্বকাপ, ১৯৫৬ অলিম্পিক ও ১৯৬০ European Championship এ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। সবমিলিয়ে দেশের হয়ে খেলেন ৭৮ টি ম্যাচ। কিন্তু এগুলো নিছকই পরিসংখ্যান। ১৯৫৬ তে Melbourne অলিম্পিক্সে মুলত তাঁর অসামান্য গোল কিপিং দক্ষতার জোরেই USSR স্বর্ণপদক লাভ করে ফুটবলে। ১৯৬০ এ Euro Championship ও তাঁর কাঁধে ভর করেই চ্যাম্পিয়ন হয় USSR এবং ১৯৬৪ তেও রানার্স হয় USSR শুধুমাত্র তাঁর নায়কোচিত খেলার ফলে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে প্রায় একার হাতে দেশ কে চতুর্থ স্থান প্রাপ্ত করান, যা কিনা এখনও পর্যন্ত Soviet Union তথা Russia র ফিফা বিশ্বকাপ এ সেরা ফল। 



তাঁর গোলরক্ষকের ভুমিকা ছিল অন্যান্য গোল রক্ষক দের থেকে সম্পূর্ণ অন্যরকম। তিনি শুধুমাত্র তাঁর দিকে ধেয়ে আসা বল ধরতেন ই না। দরকারে ৬ গজের বক্স বা তার ও বাইরে গিয়ে, কখনও কখনও পেনাল্টি বক্সেরও বাইরে গিয়ে নিখুঁত ট্যাকেলে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের কাছ থেকে বল কেড়ে নিতেন। এছাড়া পেনাল্টি বক্স এ তিনি ছিলেন রাজা। যাই বল আসুক না কেন নিখুঁত দক্ষতায়ে রুখে দিতেন বিপক্ষের যাবতীয় আক্রমণ। এছাড়াও তাঁর আউটিং ছিল অসাধারণ।সর্বোপরি, যেটা একজন গোল রক্ষকের সবচেয়ে বড় গুণ, সেই গ্রিপিং ছিল অসাধারণ। এছাড়াও দুরপাল্লার শট বা হেড এমনভাবে উড়ে উড়ে বাঁচাতেন, যা কোনও সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। শুধু অনুমান ক্ষমতা ও ঠিক জায়গা তে দাঁড়ানোর জন্যেও প্রচুর আক্রমণ নস্যাৎ হয়ে যেত। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই 'Last line of defense and the first line of attack'। এছাড়াও একজন দক্ষ নেতার মত সতীর্থদের চিৎকার করে উদ্বুদ্ধ করতেন। 



১৯৯৪ তে ফিফা তাঁর নামে একটি পুরষ্কার চালু করে যা প্রতি বিশ্বকাপে সেরা গোল রক্ষক কে প্রদান করা হয়। এছাড়াও তিনি বিংশ শতাব্দীর সেরা ১০০ জন খেলোয়াড়ের একজন মনোনীত হন ওয়ার্ল্ড সকার ম্যাগাজিন দ্বারা যেখানে তিনি একমাত্র গোল রক্ষক। শুধু ফুটবলার হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও দেশের সাধারণ নাগরিক দের জন্য প্রচুর কাজ করেন যার জন্য রুশ সরকার তাঁকে ১৯৬৭ সালে সে দেশের সবচেয়ে বড় সম্মান 'Order of Lenin' প্রদান করেন। এই অসাধারণ মানুষ টি, যার নামে Russia তে একাধিক সরণী ও মাঠ রয়েছে, ১৯৯০ তে Stomach Cancer এ আক্রান্ত হয়ে ইহ লোক ত্যাগ করেন।
ফেসবুক ক্রমাগত আমাদের গ্রুপ শেয়ারিং ব্লক করে চলেছে, সুতরাং, খেলাধুলা সম্পর্কিত সমস্ত খবর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইকের মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন, পোস্টটি পছন্দ হলে শেয়ার করতে অবশ্যই ভুলবেন না কিন্তু, লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজে
[pullquote align="normal"]
loading...
loading...
[/pullquote]

No comments