Breaking News

তিন পয়েন্ট পেতে আজ দ্রুত গোল চাইছেন মনোরঞ্জন | বর্তমান



নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুক্রবার সকাল দশটায় কোঝিকোড় স্টেডিয়ামে ইস্ট বেঙ্গলের অনুশীলন ছিল। সাড়ে ন’টার সময়ে ইস্ট বেঙ্গল ফুটবলাররা হোটেল থেকে বের হন। এই সময়ে একদল সমর্থক গোকুলাম ম্যাচের জন্য আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে ফুটবলারদের হাতে তুলে দেন গোলাপ। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেন স্থানীয় সমর্থকরা। মিনার্ভার মতো অসহযোগিতা করেনি গোকুলাম এফ সি। স্টেডিয়ামে ইস্ট বেঙ্গলকে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অনুশীলন করতে দেওয়া হয়। মাঠের অবস্থা দেখে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য খুশি। এমনিতে গোকুলাম এফসি লিগের নিচের সারির দল। আপাতত ১৩ ম্যাচে মাত্র ১৩ পয়েন্ট পেয়েছে গোকুলাম। কিন্তু পয়েন্ট টেবলে গোকুলামের অবস্থান দেখে অঙ্ক কষতে নারাজ মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য। শুক্রবার বিকেলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কলকাতায় আমরা তিন পয়েন্ট পেলেও ওরা বেশ লড়াই করেছিল। এখন ওদের দলে কিছু পরিবর্তন হয়েছে। সল্টলেক স্টেডিয়ামে মোহন বাগানকে হারিয়েছে ওরা। এবার ঘরের মাঠে খেলা। দ্রুত গোল না পেলে আমাদের ঝামেলা পড়তে হবে। তবে পাঁচকুলায় আমরা যেরকম খেলেছিলাম, সেইভাবে খেলতে পারলে আমাদের তিন পয়েন্ট পাওয়া নিশ্চিত। গোকুলাম-মোহন বাগান ম্যাচ আমি দেখিনি। তবে টেকনিক্যাল টিমের অনেকেই দেখেছেন। ওরা কর্পোরেট কোটার দল। অবনমন নেই। তাই মুক্ত মনে খেলবে।’
একটা সময় পর্যন্ত খালিদ জামিল কারও পরামর্শ নিচ্ছিলেন না। টেকনিক্যাল ম্যানেজার মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য কিংবা সহকারী কোচ রঞ্জন চৌধুরি কারও পরামর্শ শুনছিলেন না। বারাসতে ইন্ডিয়ান অ্যারোজ ম্যাচের আগে মনোরঞ্জন-রঞ্জনদের মতামতকে গুরুত্ব দেননি কোচ। তাই পাঁচকুলায় যাওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে তাঁবুতে খালিদ জামিলকে দেখে শীর্ষ কর্তারা সাফ বলে দেন, ‘মনোরঞ্জন-রঞ্জন-আলভিটো সকলের সঙ্গে মতামত নিয়ে গড়তে হবে টিম।’ মিনার্ভা এফসি ম্যাচে দল গঠনে দেখা গিয়েছিল তারই প্রতিফলন। স্টপারে এডুর সঙ্গে সালামরঞ্জন সিংকে না খেলিয়ে তাঁকে তাঁর প্রিয় পজিশন ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মনোরঞ্জন। চুলোভাকে নিয়ে আসা হয়েছিল লেফট ব্যাকে। মনোরঞ্জন- রঞ্জনরা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি করেন মাঝমাঠে। দুই স্টপারের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব অনেক দিন থেকেই ধরা পড়ছিল লাল হলুদের খেলায়। তাই কেভিন লোবোর সঙ্গে মিডল হাফে নিয়ে আসা হয় কাটসুমিকে। সামনে ডুডুকে রেখে একটু পিছন থেকে খেলানো হয় আল আমনাকে। মনোরঞ্জন বললেন, ‘মিনার্ভার বিরুদ্ধে ম্যাচের সেরা আল আমনার ভূমিকা ছিল আক্রমণ ও রক্ষণে সংযোগ রক্ষা করার। আমার মনে হয় আল আমনার ওটাই সেরা পজিশন। এতে আপফ্রন্টে বল ফিড হচ্ছে অনেক বেশি। কাটসুমি মাঝখানে খেলায় ডিপ ডিফেন্সে কিছুটা চাপ কম পড়ছে। ধানমুইয়া রালতে রাইট উইংয়ে নামানো হলেও গতির জন্য ডুডুর সঙ্গে বাড়তি স্ট্রাইকারের ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। লেফট হাফে ইয়ামি নামে আকদেমির এক তরুণ ফুটবলারকে আনা হয়েছে।’ খালিদ বলছেন, ‘মিনার্ভা এফ সি ম্যাচে জিতে আমাদের উপর চাপ কমেছে।’
শুক্রবার সকালের প্র্যাকটিসে পাঁচকুলার প্রথম একাদশ অটুট রেখে কম্বিনেশন প্র্যাকটিস করান খালিদ জামিল। শনিবার সকালে তাঁর মতিভ্রম না হলে মিনার্ভার বিরুদ্ধে ম্যাচের দল অপরিবর্তিত থাকবে। ৩০-৩৫ মিনিটের মাথায় ইয়ামিকে তুলে নামানো হবে ক্রোমাকে। দ্বিতীয়ার্ধে ক্রোমা-কাটসুমিকে ‘শাফল’ করতে বলা হচ্ছে। এই ছোটখাটো ব্যাপারগুলিকেই নিয়েই সন্ধ্যার পর রঞ্জন-খালিদ ফুটবলারদের সঙ্গে আলোচনা করলেন।
অন্যদিকে, গোকুলামের কোচ ভিনু জর্জ বলেছেন, ‘কলকাতায় মোহন বাগানকে হারানোর পর আমরা আত্মবিশ্বাসী। এখানে সাতটি ম্যাচে আমরা একটিতে জিতেছে। দুটি ড্র। চারটি হেরেছি। তাই শনিবার দুপুরে আমরা অন্য ই঩তিহাস গড়তে চাই।’ চণ্ডীগড়ে ছিল বেশ ঠান্ডা। কোঝিকোড়ে বেশ গরম। দুপুরে তাপমাত্রা থাকছে প্রায় ৩০ ডিগ্রি। তাই দ্বিতীয়ার্ধে ক্লান্ত হয়ে উঠতে পারে লাল হলুদ ব্রিগেড। মনা তাই দ্রত গোল চাইছেন। তবে শুক্রবার বিকেলে ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের হৃদয় ভেঙে দিতে পারে উগোচুকু ও দানিয়েল অ্যাডোর জমাট স্টপার জুটি। আপফ্রন্টে আল আজমা ও হেনরির কম্বিনেশন এডু- অর্ণব-কাটসুমিরা কিভাবে সামলান তার মধ্যেই নিহিত আছে শনিবারের ম্যাচের ভাগ্য। কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে প্রভাত লাকরা ও কেরলের গোলরক্ষক বিলাল খানের দিকে। আই লিগে আনকোরা গোলরক্ষকদের মধ্যে বিলালই সেরা।
ফেসবুক ক্রমাগত আমাদের গ্রুপ শেয়ারিং ব্লক করে চলেছে, সুতরাং, খেলাধুলা সম্পর্কিত সমস্ত খবর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইকের মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন, পোস্টটি পছন্দ হলে শেয়ার করতে অবশ্যই ভুলবেন না কিন্তু, লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজে
[pullquote align="normal"]
loading...
loading...
[/pullquote]

No comments