Breaking News

এএফসি কাপে বিদেশিহীন বেঙ্গালুরু এফসি’কে হারিয়ে ফেড কাপ ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে রাখল মোহন বাগান । বর্তমান

মোহন বাগান-৩                                বেঙ্গালুরু এফসি-১
(জেজে, কেন লুইস, বিক্রমজিৎ-সিনিয়র)                  (লেন)


সোমনাথ বসু, ১৭ মে: গ্যালারিতে মেরেকেটে পাঁচশো সমর্থক। যদিও পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমে ঘোষণা করা হল, উপস্থিতির সংখ্যা বারোশো’র কিছু বেশি। তর্কের খাতিরে সেই সংখ্যা ধরে নিলেও মানতে হবে তা মোটেই আহামরি নয়। এএফসি কাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে বলেই কি ক্লাব প্রেম এখন সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলিতে বন্দি? সবুজ-মেরুন কর্তারা আবার বুক ফুলিয়ে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ লক্ষ সমর্থক’! 


ফেডারেশন কাপ ফাইনালের কথা মাথায় ঘুরছে। তাই দুই কোচের কাছেই এই ম্যাচ তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। বুধবার এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে মাজিয়া ২-০ গোলে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশের আবাহনীকে। পাঁচ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট সংগ্রহ করল মালদ্বীপের ক্লাবটি। তা সত্ত্বেও কোচ আলবার্তো রোকার কিছু করার ছিল না। কারণ, তিনি তো মাত্র ১৬জন ফুটবলার নিয়ে কটক থেকে কলকাতায় এসেছেন। তাই গ্রুপ পর্ব থেকে পরবর্তী পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য ৩১ মে কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে মাজিয়ার বিরুদ্ধে জিততেই হবে বেঙ্গালুরু এফসি’কে (পাঁচ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট)। তবে মোহন বাগান এই ম্যাচ জিতে রবিবারের আগে আত্মবিশ্বাস যে বাড়িয়ে রাখল তা নিয়ে সন্দেহ নেই। 
আইজলের বিরুদ্ধে নামানো প্রথম একাদশের মাত্র দু’জনকে এদিন স্টার্টিং লাইন-আপে রেখেছিলেন বেঙ্গালুরু কোচ। এঁরা হলেন সালাম রঞ্জন সিং ও বিনীথ। উল্লেখ্য, এই ম্যাচে বিদেশিহীন ছিল বেঙ্গালুরু এফসি। মোহন বাগান কোচ সঞ্জয় সেনও হেঁটেছেন একই পথে। ডার্বির প্রথম একাদশে আমূল বদল এনেছেন। রেখেছেন শুধু এডুয়ার্ডো ও বলবন্ত সিংকে। 
ম্যাচের নবম মিনিটেই লিড নেয় মোহন বাগান। রেনিয়ার ফার্নান্ডজের বুদ্ধিদীপ্ত চিপ ফলো করেন জেজে। বেঙ্গালুরুর ডিফেন্ডাররা তখন অফ-সাইড ট্র্যাপের আশায়। কিন্তু তা ভেদ করে বিপক্ষ গোলরক্ষককে হার মানাতে অসুবিধা হয়নি জেজের (১-০)। প্রারম্ভিক পর্বে মোহন বাগানের খেলায় পরিকল্পনার ছাপ ছিল সুস্পষ্ট। দুই প্রান্তকে সচল রেখেছিলেন প্রবীর দাস ও কেন লুইস। মাঝমাঠে রেনিয়ার ও বিক্রমজিৎ (সিনিয়র) যথেষ্ট ওয়ার্কলোড নিয়েছেন। বেঙ্গালুরু বিক্ষিপ্তভাবে তিনটি আক্রমণ শানালেও তা গোল করার পক্ষে যথেষ্ট ছিল না। এডুয়ার্ডো রক্ষণে যোগ্য নেতৃত্ব দিলেও তাঁর পাশে একাধিক ভুল করেছেন লেফট ব্যাক সঞ্জয় বালমুচু। 
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অবশ্য গোলশোধের চেষ্টা করে বেঙ্গালুরু এফসি। বিক্রমজিৎ সিংয়ের ভুলে গোল করার সুযোগও পেয়েছিলেন বিনীথ। কিন্তু রাজু গায়কোয়াড় তৎপর থাকায় বিপদ ঘটেনি। তবে ৫২ মিনিটে লেন ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সবুজ-মেরুন রক্ষণে ফাটল ধরিয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত শটে হার মানান শিলটনকে (১-১)। এর কয়েক মিনিট পরে বিনীথের শট রুখে দেন মোহন বাগান গোলরক্ষক। ৬১ মিনিটে এডুয়ার্ডোর পরিবর্তে কাটসুমিকে মাঠে নামান সঞ্জয় সেন। তাই প্রবীর দাস নেমে আসেন রাইট ব্যাকে। ডিপ ডিফেন্সে বিক্রমজিৎ সিং জুনিয়রের পাশে রাজু গায়কোয়াড়। পরের মিনিটেই কেন লুইসের অনবদ্য শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৬৫ মিনিটে দুরন্ত প্রতি-আক্রমণে বেঙ্গালুরু রক্ষণ ভেঙে জেজের জন্য সাজিয়ে দিয়েছিলেন প্রবীর দাস। কিন্তু মোহন বাগান স্ট্রাইকারটি একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে বল উড়িয়ে দেন। এখানেই শেষ নয়। এরপরেও দু’টি সুযোগ হেলায় হারিয়েছেন জেজে। ৭৫ মিনিটে দ্বিতীয় গোল বাগানের। নিশু কুমারকে দুরন্ত ডজে বোকা বানান কেন লুইস। তারপর নেন শট যা গুরসিমরতের পায়ে লেগে জালে আশ্রয় নেয় (২-১)। পাঁচ মিনিট পরেই বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া চমৎকার শটে বিপক্ষ গোলরক্ষক রালতেকে হার মানান বিক্রমজিৎ সিং সিনিয়র (৩-১)। তারপর দৌড়ে সাইড বেঞ্চের কাছে এসে জড়িয়ে ধরেন বলবন্ত সিংকে। 
ম্যাচের শেষ পর্বে ঝড়ের দাপটে বেঙ্গালুরু এফসি’র সাইড বেঞ্চের ছাউনি পড়ে যায়। চমকে যান রোকা। রবিবার কটকের বরাবাটিতে কি এমনই চমক অপেক্ষা করছে তাঁর দলের জন্য? এদিনের ফলের পর মোহন বাগান সমর্থকদের ফেড কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা ক্রমশ বাড়ছে। 
মোহন বাগান: শিলটন পাল, রাজু গায়কোয়াড়, এডুয়ার্ডো (কাটসুমি), বিক্রমজিৎ সিং (জুনিয়র), সঞ্জয় বালমুচু, প্রবীর, বিক্রমজিৎ সিং (সিনিয়র), রেনিয়ার ফার্নান্ডেজ, কেন লুইস (রবিনসন সিং), জেজে ও বলবন্ত সিং (আজহারউদ্দিন মল্লিক)।
ফেসবুক ক্রমাগত আমাদের গ্রুপ শেয়ারিং ব্লক করে চলেছে, সুতরাং, খেলাধুলা সম্পর্কিত সমস্ত খবর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইকের মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন, পোস্টটি পছন্দ হলে শেয়ার করতে অবশ্যই ভুলবেন না কিন্তু, লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজে
[pullquote align="normal"]
loading...
loading...
[/pullquote]

No comments